Thursday, 13 August 2015

পর্ব ছয় কউপমহাদের রাজনীতিতে রক্ত দেয়া নেয়ার খেলা চলছে এবং ভবিষ্যতেও কি চলবে ????জিন্নাহর যেভাবে মৃত্যু হয়॥

পর্ব ছয়    ক
উপমহাদের রাজনীতিতে রক্ত দেয়া নেয়ার খেলা চলছে এবং ভবিষ্যতেও কি চলবে ???? জিন্নাহর  যেভাবে মৃত্যু হয়॥

সূফি বরষণ
বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জিন্নাহ সম্পর্কে আলোচনা শুধু করবো, কারণ সারাজীবন আমরা ভুল ইতিহাস জেনে এসেছি ॥
“অখ- ভারতে যে মুসলমানদের অস্তিত্ব থাকবে না এটা আমি মনপ্রাণ দিয়ে বিশ্বাস করতাম।” ( বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পৃঃ ৩৬)। “এখন আর মুসলমান ছেলেদের মধ্যে মতবিরোধ নাই।  পাকিস্তান আনতে হবে এই একটাই শ্লোগান সকল জায়গায়।”
“২৯ জুলাই জিন্নাহ সাহেব অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ কাউন্সিল সভা বোম্বে শহরে আহ্বান করলেন। অর্থের অভাবের জন্য আমি যেতে পারলাম না। জিন্নাহ সাহেব ১৬ আগস্ট তারিখে ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে ঘোষণা করলেন। তিনি বিবৃতির মারফত ঘোষণা করেছিলেন, শান্তিপূর্ণভাবে এই দিবস পালন করতে। ... কিন্তু হিন্দু মহাসভা ও কংগ্রেসের প্রপাগান্ডার কাছে তারা অর্থাৎ (মুসলিম লীগের অতিনমনীয় ফরোয়ার্ড ব্লক) টিকতে পারল না। হিন্দু সম্প্রদায়কে বুঝিয়ে দিল এটা হিন্দুদের বিরুদ্ধে।” ( বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পৃঃ ৬৩)। কায়দে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সম্পর্কে শেখ লেখেন, “এরপর জিন্নাহ যতদিন বেঁচেছিলেন আর কোনদিন বলেন নাই, উর্দুই একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে।” ( বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী পৃঃ ৯৯)। জিন্নাহর মৃত্যুর পূর্বে বেলুচিস্তানের জিয়ারত শহরে তার ডাক্তারের নিকট দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন শুধু উর্দুর পক্ষে ঢাকাতে কথা বলা ভুল ছিল ॥
শেখ লেখেন, “১৯৪৭ সালে যে মুসলিম লীগকে লোকে পাগলের মতো সমর্থন করছিল, সেই মুসলিম লীগ প্রার্থীর পরাজয় বরণ করতে হল কি জন্য? ... জিন্নাহর মৃত্যুর পর থেকেই কোটারি ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়েছে। ... জিন্নাহকে পূর্ব বাংলার জনগণ ভালবাসত ও শ্রদ্ধা করত। ঘরে ঘরে জনসাধারণ তার নাম জানত। ... জিন্নাহ সাহেব শাসনতন্ত্র দিয়ে গেলে কোনো গোলমাল হওয়া বা ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাব না থাকত কিনা সন্দেহ ছিল।” ( বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী পৃঃ ১১৯)।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারত বিভাগ প্রাথমিকভাবে চাননি—এটা যেমন সত্য, ঠিক তেমনি জিন্নাহ, নেহরু তথা কংগ্রেস আর সর্দার বল্লভ প্যাটেলের নানামুখী স্বার্থচিন্তার সুযোগটাও খুব ভালোমতো নিয়েছিলেন দ্বিজাতিতত্ত্বের মাধ্যমে মুসলমানদের আলাদা আবাসভূমি পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের ধারণা জিন্নাহ সামনে এনেছিলেন যখন অন্য কংগ্রেসনেতারা মুসলমানদের সম-অধিকারের ভিত্তিতে অখণ্ড ভারতের কাঠামোর মধ্যে জিন্নাহর দাবিমতো স্বায়ত্তশাসন দিতে গড়িমসি করছিলেন।
নেহরু, প্যাটেল সবার মধ্যেই জিন্নাহকে অবজ্ঞা করার একটা প্রবণতা ছিল। জওহরলাল নেহরু জিন্নাহকে রাজনৈতিকভাবে ঈর্ষা করতেন। জিন্নাহ যখন মুসলিম লীগের একচ্ছত্র নেতা, কংগ্রেসে তখন নেহরু, মওলানা আজাদের যৌথ নেতৃত্ব। নেহরু দারুণ প্রজ্ঞাবান একজন রাজনীতিবিদ হওয়ার পরও সিদ্ধান্ত নেওয়ার পুরোপুরি স্বাধীনতা তাঁর ছিল না। অপরদিকে জিন্নাহর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার মতো কোনো নেতা মুসলিম লীগে ছিল না। এ ব্যাপারটি নিয়ে নেহরুর মনের গহিনে একটা সূক্ষ্ম ঈর্ষা কাজ করত। একবার মাউন্ট ব্যাটেনকে কথা প্রসঙ্গে জিন্নাহ সম্পর্কে নেহরু বলেছিলেন, ‘ক্ষমতার বাতিকে পাওয়া মাঝারি গোছের একজন উকিল বই আর কিছু নন মি. জিন্নাহ।’ ভারতীয় রাজনীতিকদের এ রকম ব্যক্তিদ্বন্দ্ব দারুণ উপভোগ করতেন মাউন্ট ব্যাটেন। এ সময় মহাত্মা গান্ধী এই দ্বন্দ্ব নিরসনে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি। ভারতের দুর্ভাগ্য, গান্ধী কখনোই আপদমস্তক রাজনীতিক ছিলেন না।  ক্যাবিনেট মিশন প্লান প্রস্তাবের পর আর সেই কথা নেহেরু বলেই বসলেন জিন্নাহকে আমার সাথে প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা আমার চাপরাশিও বানাবো না???!!! এরপরই সব আলোচনা ভেসতে গিয়ে ভারত ভাগের দিকে এগিয়ে যায়॥ যার ফলে ১৫ মিলিয়নের বেশি মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে শরণার্থী হয়॥ আর নিহত হয় ৫ মিলিয়ন মানুষ এবং ৮৩ হাজার নারী তাঁর ইজ্জত হারায় ॥
খ
জিন্নাহর  দ্বিজাতিতত্ত্ব
এককালে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ছিলেন 'হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের অগ্রদুত', মুসলমানদের অধিকার রক্ষায় কালে তিনিই হলেন সাম্প্রদায়িতক রাজনীতির প্রধান?। ইংরেজী ছাড়া যিনি কথা বলতেন না, সাহেবী পোশাক ছাড়তে চাইতেন না, খাদ্য-অখাদ্যের ব্যাপারে যার কোন বাছ-বিচার ছিল না। কোন্‌ মাসে রোজা তার খবর রাখতেন না, নিজে বিয়ে করেছিলেন পার্সী মহিলাকে, গুজরাটি শিয়া মুসলিম তিনিই হলেন ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে যখন তিনি মুসলমানদের অধিকার আদায়ের
করতে বদ্ধপরিকর, সেই সময়েই তিনি মাউন্টব্যাটেনকে বলেছিলেন, পাণ্জাব ও বাংলার হিন্দুস্তান-পাকিস্তান তিনি কিছুতেই মেনে নেবেন না। যুক্তি কি? যুক্তি খুব স্পষ্ট। 'আপনি বুঝতে পারছেন না কেন', মাউন্টব্যাটেনকে তিনি যুক্তি দিয়ে বুঝিয়েছিলেন, 'পাণ্জাব হচ্ছে একটি জাতি। হিন্দু বা মুসলমান তো পরে, আগে আমরা পাণ্জাবী কিংবা বাংগালী'।
(ল্যারি কলিন্স ও দোমিনিক্‌ লাপিয়ের, 'মাউন্টব্যাটেন এন্ড দ্য পার্টিশান অব ইন্ডিয়া', পৃস্ঠা ৪৩)। আজকে এটা পরিষ্কার বুঝা যায় সেই দিন যদি জিন্নাহ কৌশলে পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তানের সাথে না রাখতেন তাহলে আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ আমরা পেতাম না ॥ বাংলাদেশের অবস্থা হায়দ্রাবাদ সিকিম আসাম কাশ্মির থেকে ভালো হওয়ার কোনো কথা ছিলনা ॥ সে আপনারা এই আলোচনার শুরুতেই পড়েছেন ॥ বঙ্গবন্ধুর লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইয়ের কিছু উদ্ধৃতি থেকে ॥ জিন্নাহ বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মুসলমানদের কে হিন্দুদের  হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন ॥ এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তী পর্বে আসতেছে॥ ৪৭ এ  এসে দুইশত বছরের গোলামীর পর পূর্ব বাংলার অবস্থা কি ছিল আর ৭১ এ এসে পূর্বে পাকিস্তানের অবস্থা কি ছিল ॥ অপরদিকে জিন্নাহ
অসাম্প্রদায়িকও ছিলেন ॥
জিন্নাহ পাকিস্তান গনপরিষদের প্রথম অধিবেশনে পাকিস্তান সৃষ্টির আগেই  ১৯৪৭সালের ১১ আগস্ট তিনি পাকিস্তানের গণ পরিষদে  ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, পাকিস্তানে কেউ আর আলাদা করে হিন্দু থাকবে না, মুসলমানও না, সবাই মিলে হবে এক জাতি। যে মুসলমানেরা ভারতে পড়ে রইলো তারা কোন জাতি--সে প্রশ্নেরও জবাব তিনি দেন নি।-----তিনি কর্তৃত্ত্ব ভালবাসতেন, যে জন্য তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী না হয়ে গভর্ণর জেনারেল হয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে, তার পাকিস্তানে গভর্নর জেনারেলই হবেন সর্বে-সর্বা, প্রধানমন্ত্রী আজ্ঞাবহ (প্রাগুক্ত, পৃষঠা ৪৭)।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর দেখলেন তার সেই ক্ষমতা থাকছে না। অসুস্থ হবার পর দেখলেন কোয়েটার এক পাহাড়ী অন্চলে তাঁকে ফেলে রাখা হয়েছে, কেউ খোঁজ নেয় না, টেলিগ্রাম পাঠালে ওষুধ আসে না। বুঝে ফেললেন, পাকিস্তান কি বস্তু!---মৃত্যুর আগে তিনি বলে গেছেন পাকিস্তান সৃষ্টি ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। স্বাক্ষী তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক লে: কর্নেল ইলাহী বক্স। এখানে উল্লেখ যে জিন্নাহ পাকিস্তান ভারত থেকে আলাদা করছিলেন ঠিকই কিন্তু কংগ্রেস বা নেহেরু, গান্ধীজির মতো গণহত্যার মদত দাতা ছিলেন না তাই জিন্নাহকে যক্ষ্মা বাঁচিয়ে দিয়েছিল। ক্ষয়রোগে মারা না গেলে তাঁর ভাগ্যও গান্ধীর মতো হতো। তিনি প্রাণ দিতেন মুসলিম মৌলবাদীদের হাতে। কারণ, তিনি চাইছিলেন মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও পাকিস্তান হবে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। তাঁর ভাষায় ‘রিলিজিয়ন শুড নট বি অ্যালাউড টু কাম ইনটু পলিটিকস’—ধর্মকে রাজনীতিতে টেনে আনা উচিত নয়।
দৈনিক সংবাদ, ২৯/১১/১৯৮৮
মুক্তবুদ্ধি চর্চা কেন্দ্র থেকে
সূফি বরষণ

Wednesday, 12 August 2015

পর্ব পাঁচ কউপমহাদের রাজনীতিতে রক্ত দেয়া নেয়ার খেলা চলছে এবং ভবিষ্যতেও কি চলবে ????রাজিব গান্ধীর যেভাবে মৃত্যু হয়॥

পর্ব পাঁচ   ক
উপমহাদের রাজনীতিতে রক্ত দেয়া নেয়ার খেলা চলছে এবং ভবিষ্যতেও কি চলবে ???? রাজিব গান্ধীর  যেভাবে মৃত্যু হয়॥

সূফি বরষণ
ইন্দিরাপুত্র রাজিব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার জীবনেও ঝুঁকি নেমে আসে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কায় সেনা পাঠিয়ে তিনি তামিল গেরিলাদের বিরাগভাজন হন। শ্রীলঙ্কা সফরকালে এক সেনা সদস্য তাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। কিন্তু ১৯৯১ সালের ২১ মে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়–তে কংগ্রেসের এক নির্বাচন প্রচারাভিযানে অংশ নিতে গিয়ে তিনি তামিল গেরিলাদের আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন। রাজিব গান্ধীর ছোট ভাই সঞ্জয় গান্ধী রাজনৈতিক কারণে নিহত না হলেও বিমান চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারান।
৩১শে অক্টোবর ১৯৮৪, যেদিন ইন্দিরা গান্ধী তাঁর দেহরক্ষীদের দ্বারাই নিহত হন সেদিন গান্ধী পশ্চিমবঙ্গে ছিলেন। তাঁর মায়ের দুই শিখদেহরক্ষী দ্বারা হত্যা-কান্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উচ্চ পর্যায়ের কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ এমনকি রাষ্ট্রপতি জৈল সিং ও তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হবার জন্য চাপ দিতে থাকেন। দেশের রাজধানী দিল্লিতে শিখ-বিরোধী দাঙ্গার পরিপ্রেক্ষিতে রাজীব গান্ধীর, "যখন একটি বিশালাকৃতি বৃক্ষের পতন হয় তখন তার তলায় ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়; এই মন্তব্যটির জন্য ব্যাপক ভাবে সমালোচিত হতে হয়েছিল। বহু কংগ্রেস রাজনীতিককে এই দাঙ্গা পরিকল্পনার/পরিচালনার জন্য দায়ী করা হয়েছিল॥ যেহেতু তত্কালীন লোকসভা তার পাঁচ বছর কার্যকাল সম্পূর্ণ করেছিলো সেহেতু রাজীব কার্যভার গ্রহণের অব্যবহতি পরেই রাষ্ট্রপতি জৈল সিংকে লোকসভা ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচন করতে অনুরোধ জানান। রাজীব গান্ধী আনুষ্ঠানিক ভাবে কংগ্রেস পার্টির সভাপতি ও মনোনীত হলেন।
ভারত বর্ষের সংসদের ইতিহাসে সর্বকালীন সর্ববৃহদ সংকখ্যাগরিষ্টতা নিয়ে কংগ্রেস পার্টি এক অভূতপূর্ব বিজয় লাভ করে॥ সরকারের ওপর গান্ধীর একাধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। তারুণ্য, নিষ্কলুষ (মি. ক্লিন) ভাবমূর্তি ও 'দুর্নীতিপরায়ণ রাজনীতিক' এই প্রেক্ষাপট-বিহীনতা তাঁর সহায়ক হয়েছিল। রাজীব তাই কংগ্রেসের অনুকূলে ভারতের জনসাধারণের আশা ও উদ্দীপনাকে পুনরুজ্জীবিত করতে পেরেছিলেন।
গান্ধী তাঁর মায়ের, সমাজবাদী, পথের বিশিষ্ট ভাবে ভিন্ন পথে নেতৃত্ব প্রদান আরম্ভ করেছিলেন। তিনি, ভারতের সমাজতান্ত্রিক নীতি ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে বন্ধুত্যপুর্ণ সম্পর্কের কারণে দীর্ঘ সংকটাদীর্ণ ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি এবং অর্থনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার প্রসার সাধন করেন। তিনি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যা এবং সমগোত্রীয় শিল্পে সরকারী সহায়তা বৃদ্ধি, বৈদেশিক আমদানির পরিমাণ হ্রাস, প্রযুক্তি-নির্ভর শিল্প, বিশেষত কম্পিউটার, এয়ারলাইনস, সামরিক ও টেলিযোগাযোগ প্রভৃতি ক্ষেত্রে কর ও শুল্ক হ্রাস কম্পিউটার করেন.তিনি, ব্যবসায়ীদের মূলধন সংগ্রহ, ব্যক্তি বিশেষের ভোগ্য পণ্য ক্রয় এবং আমদানির ওপর আমলাতান্ত্রিক বিধি-নিষেধ সৃষ্টিকারীলাইসেন্স রাজ এর হ্রাসের জন্য কিছ গুরুত্বপূর্ণ পন্থার প্রচলন করেছিলেন। সারা ভারত ব্যাপী উচ্চ শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে তিনি ১৯৮৬ সালে জাতীয় শিক্ষা নীতি ঘোষণা করেছিলেন। তিনি ১৯৮৬ সালে জওহর নবোদয় বিদ্যালয় সিস্টেম-এই নামে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন একটি প্রতিষ্ঠানের সূচনা করেন যার প্রধান লক্ষ ছিল ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেনী পর্যন্ত অবৈতনিক-গৃহশিক্ষা সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে সমাজের গ্রামীন ক্ষেত্রে মানুষের উন্নয়ন। তাঁরই প্রচেষ্টায় ১৯৮৬ সালে MTNL -এর সৃষ্টি হয় এবং পাবলিক কল অফিস যা PCO এই নামেই খ্যাত গ্রামীন এলাকাগুলিতে টেলিফোনের বিস্তার ঘটাতে সহায়তা করেছে।
তাঁর অনুমোদনেই জঙ্গি কার্যকলাপের রাশ টানতে পঞ্জাবে এক বিস্তীর্ণ পুলিশী ও সামরিক অভিযান চালানো হয়। পাঞ্জাব রাজ্যে এক সামরিক আইন জারির মতো অবস্থা চলছিলো যার ফলে অসামরিক মুক্ত জীবনযাপন, ব্যবসা-বানিজ্য ও পর্যটন শিল্প বিশেষ ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছিল। সেই সময় এখানে পুলিশ অধিকর্তা ও জঙ্গি উভয়ের দ্বারাই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বহু অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। এরকম অভিযোগ ও করা হয় যে, যখন পঞ্জাবের পরিস্থিতি আয়ত্তের মধ্যে তখন ভারত সরকার শ্রীলঙ্কা সরকারের সঙ্গে যুদ্ধরত LTTE বিদ্রোহীদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করেছে। ১৯৮৭ সালের ২৯শে জুলাইকলম্বোতে রাজীব গান্ধী ও শ্রীলঙ্কা রাষ্ট্রপতি জে আর জয়ার্ধনের মধ্যে ইন্দো-শ্রীলঙ্কা পীস একর্ড স্বাক্ষরিত হয়। তার পর দিনই, ৩০শে জুলাই১৯৮৭ সালে রাজীব গান্ধী যখন গার্ড অফ অনার নিচ্ছিলেন তখন ভিজয়ামুনিগে রোহন দি সিলভা নামে একজন নবীন সিহ্নলী নৌ-সেনা সদস্য রাইফেলের কুদো দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে। আঘাতটি রাজীব গান্ধীর মাথার পিছনে করার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকলেও তা তাঁর কাঁধে লাগে। "রাজীব একটু লাফিয়ে উঠেছিলেন এবং তাঁর সামান্য ভারসাম্য হারিয়ে ছিল" এই বলে লজ্জিত শ্রীলঙ্কা খ
রাষ্ট্রপতি,জুনিয়াস রিচার্ড জয়েবার্দেনে প্রথমিক ভাবে এই অদ্ভূত ঘটনাটিকে পাস কাটাতে চয়েছিলেন, রাজীব গান্ধী নতুন দিল্লিতে ফেরার পথে জে এন দীক্ষিত কে বলেছিলে "নিশ্চিত রূপে আমার আঘাত লেগেছিলো"। নৌ-সেনা সদস্য রোহন সেই সময় ভারতের সাম্রাজ্যবাদিতার বিরুদ্ধে সিন্ঘলীদের কাছে জাতীয়তাবাদের এক প্রতিভূ হয়ে উঠেছিলো। শ্রীলঙ্কা সরকার ও LTTE বিদ্রোহীদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর প্রচেষ্টাটি যখন প্রত্যাঘাত করে তখন রাজীব গান্ধীর সরকারও এই কাজের জন্য বড়ো একটি ধাক্কা খায়॥
এতো ভালো কিছু করার পরও কেন মরতে হলো গান্ধীকে, নেহেরু কে, ইন্দিয়া কে এবং রাজিব গান্ধীকে ॥ একজনেরও তো স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারতো কিন্তু হয়নি আর হওয়ার কথাও না কারণ ইতিমধ্যে আমি আপনি আমরা সবাই জেনে গেছি এরা ক্ষমতার জন্যে  মিলিয়ন মিলিয়ন
মানুষ হত্যা করেছে ॥ এদের সবার হাত শরীর ভারত বর্ষের মানুষের রক্তে রাঙানো॥ এরা সবাই খুনী এদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয় কি করে ॥ পৃথিবীতে প্রকৃতির শাস্তি বলে একটা কথা আছে তা তো ভোগ করতেই হবে॥
মুক্তবুদ্ধি চর্চা কেন্দ্র থেকে
সূফি বরষণ

পর্ব চার কউপমহাদের রাজনীতিতে রক্ত দেয়া নেয়ার খেলা চলছে এবং ভবিষ্যতেও কি চলবে ????ইন্দিরা গান্ধীর যেভাবে মৃত্যু হয়॥

পর্ব চার  ক
উপমহাদের রাজনীতিতে রক্ত দেয়া নেয়ার খেলা চলছে এবং ভবিষ্যতেও কি চলবে ???? ইন্দিরা গান্ধীর  যেভাবে মৃত্যু হয়॥

 সূফি বরষণ
ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন ভারতের দুই মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী। তিনি খুন হন ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর। সকাল ৯টা ২০ মিনিটে। এ সময় তিনি ছিলেন তার নয়াদিল্লির সফদর জং রোডের বাসভবনে। তাকে গুলি করে হত্যা করে তার দু’জন শিখ দেহরক্ষী সতওয়ান্ত সিং ও বেয়ান্ত সিং। এর কয় মাস আগে জুনের প্রথম দিকে ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে পাঞ্জাবের অমৃতসরে শিখদের স্বর্ণমন্দিরে পরিচালিত হয় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন ব্লু স্টার’ নামে সামরিক অভিযান। এ অভিযানে স্বর্ণমন্দিরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলে। বলা হয়ে থাকে, সে অভিযান ইন্দিরা সরকারের প্রতি শিখসমাজকে ব্যাপকভাবে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। অনুমান করা হয়, সে সূত্রেই সৃষ্ট ক্ষোভের জের হিসেবেই ইন্দিরা গান্ধী খুন হয় তার দুই শিখ দেহরক্ষীর হাতে। অপরদিকে মহান মুক্তিযুদ্ধের তিন মহা কলাকৌশলীর একজন হলো ইন্দিরা গান্ধী॥ বাংলাদেশের ৭১ এ গণহত্যার উসকানী দাতা ছিল ইন্দিরা গান্ধী॥ সামরিক অভিযানে স্বর্ণমন্দিরে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের ও ধ্বংসযজ্ঞের নির্দেশ দাতাও ইন্দিরা গান্ধী॥ শিখদের পবিত্র ধর্মীয় স্থান ও উপাসনালয় পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে সেনা অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। ওই মন্দিরে স্বাধীনতাকামী শিখ সশস্ত্র যোদ্ধারা আশ্রয় গ্রহণ করেছিল। তাদের নির্মূল করতেই ইন্দিরা ওই সেনা অভিযানের নির্দেশ দেন। এ অভিযানে অনেক শিখ নিহত হয়। এ ছাড়া উপাসনালয়ের মতো পবিত্র স্থানে বুট পরা সৈন্যদের প্রবেশের মাধ্যমে ধর্মীয় স্থানকে অপবিত্র ও এর অমর্যাদা করার ঘটনাকে শিখরা ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখেনি। তারই প্রতিশোধ হিসেবে ইন্দিরা গান্ধীকে নয়াদিল্লিতে সরকারি বাসভবনে তার শিখ দেহরক্ষীরা গুলি করে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় ওই বছরই নয়াদিল্লিতে শিখবিরোধী দাঙ্গায় প্রায় ২০ হাজার শিখ নারী-পুরুষ-শিশু নিহত হয়।
পর্ব চার খ
ব্রিটিশ অভিনেতা পিটার উস্তিনভকে সাক্ষাৎকার দেয়ার জন্য যাওয়ার পথে সকাল ৯টা ২০ মিনিটের সময় তিনি খুন হন। এই ব্রিটিশ অভিনেতা আইরিশ টেলিভিশনের জন্য একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করছিলেন। ১ নম্বর আকবর রোডের অফিসের কাছের ১ নম্বর সফদর জং রোডের বাসভবনের বাগানের একটি পথ দিয়ে তখন হাঁটছিলেন। তিনি যখন সতওয়ান্ত সিং ও বেয়ান্ত সিংহের প্রহরাধীনে উইকেট গেট (বিশেষ কোনো বড় দরজার পাশে বা ভেতরে থাকা ছোট দরজা) দিয়ে বের হচ্ছিলেন, তখন এরা তার ওপর গুলি ছোড়ে। সাব-ইনস্পেক্টর বেয়ান্ত সিং তার সাইড আর্ম থেকে তিনটি গুলি ছোড়েন তার তলপেটে। এরপর তিনি মাটিতে পড়ে গেলে সতওয়ান্ত সিং তার স্টেনগান থেকে ৩০ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। গুলি করার পর উভয়ই তাদের অস্ত্র হাত থেকে ছুড়ে ফেলেন। তখন বেয়ন্ত সিং বলেন, ‘যা করার ছিল, আমি তা করে ফেলেছি, তুমি যা করতে চাও করো’। পরবর্তী ৬ মিনিটের মধ্যে ইন্ডো-তিব্বতান বর্ডার পুলিশের রমেশ সিং জামওয়াল ও রাম শরণ বেয়ান্ত সিংকে ধরে একটি আলাদা কক্ষে নিয়ে হত্যা করে। কারণ অভিযোগে প্রকাশ বেয়ান্ত সিং এ কক্ষের এক কর্মকর্তার কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। 
অপর দিকে গান্ধীর অন্যান্য দেহরক্ষী সতওয়ান্ত সিংকে গ্রেফতার করে। তার সাথের পালাতে যাওয়া একজনও গ্রেফতার হন। বেয়ান্ত সিংয়ের হামলার সময় তিনি মারাত্মক আহত হন। বেয়ান্ত সিংকে তার সঙ্গী কেহার সিংসহ ১৯৮৯ সালে ফাঁসি দেয়া হয় দিল্লির তেহার জেলে। অভিযোগ আছে, ইন্দিরা গান্ধীর সেক্রেটারি আর কে দেওয়ানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল ইন্দিরার পাহারা থেকে শিখ সদস্যদের সরিয়ে দিতে। আর কে দেওয়ান তা উপেক্ষা করেন। উল্লেখ্য, বেয়ান্ত সিং ছিলেন ইন্দিরা গান্ধীর খুবই প্রিয় দেহরক্ষী। তাকে তিনি চিনতেন ১০ বছর ধরে। ঘটনার সময় অন্য খুনি সতওয়ান্ত সিংয়ের বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর। ঘটনার মাত্র পাঁচ মাস আগে তাকে ইন্দিরার প্রহরী নিয়োগ করা হয়।
দূরদর্শনের অ্যাংকর টেলিভিশন সাংবাদিক সালমা সুলতানা ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর দূরদর্শনের সন্ধ্যার খবরে ইন্দিরা হত্যার খবর প্রচার করেন। এ খবর প্রচারিত হয় তাকে গুলি করার ১০ ঘণ্টা পর। সকাল সাড়ে ৯টায় তাকে নেয়া হয় অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সে। সেখানে তার ওপর অপারেশন চালানো হয়। বেলা ২টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এরপর চলে ময়নাতদন্ত। ময়নাতদন্ত দলের নেতৃত্ব দেন ডা: টি ডি ডোগরা। তিনি বলেন, কমপক্ষে ৩০টি বুলেট বিদ্ধ হয় ইন্দিরার শরীরে। বুলেট ছোড়া হয় স্টেনগান ও পিস্তল থেকে। খুনিরা ৩১টি বুলেট ছুড়লেও একটি তার গায়ে লাগেনি। গায়ে লাগা ৩০টি গুলির মধ্যে ২৩টি গুলি শরীরের এক পাশে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৭টি গুলি দেহের ভেতরেই থেকে যায়। ডা: ডোগরা ইন্দিরার দেহ থেকে বের করে আনা বুলেটগুলোর ব্যালিস্টিক এক্সামিনেশনের মাধ্যমে নির্ণয় করেন এগুলো কী ধরনের অস্ত্র থেকে ছোড়া হয়েছে। এই বুলেটগুলো সিএফসিএল দিল্লির সংশ্লিষ্ট অস্ত্রের সাথে মিলে যায়। পরবর্তী সময়ে ডা: ডোগরা একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে হাজির হন শ্রী মহেশ চন্দ্রের আদালতে। আদালত কয়েকটি অধিবেশনে তার সাক্ষ্য নেয়। তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের উকিল শ্রী পি এন লেখি। 
১ নভেম্বর তার মৃতদেহ একটি গানবহরে করে দিল্লির রাস্তা দিয়ে নিয়ে রাখা হয় তিন মূর্তি ভবনে। মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধ রাজঘাটের কাছের শক্তিস্থল নামে এক স্থানে তার শেষকৃত্য হয় ৩ নভেম্বর। তার শেষকৃত্যানুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারিত হয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক টেলিভিশন ও বিবিসিসহ রেডিওতে। তাকে দাহ করার পর শুরু হয় শিখবিরোধী দাঙ্গা। এতে প্রায় তিন হাজার শিখ প্রাণ হারায়। বাস্তুচ্যুত হয় আরো কয়েক লাখ শিখ। ইন্দিরা গান্ধীর ছেলে রাজিব গান্ধী সরাসরি টেলিভিশনে প্রচারিত এক অনষ্ঠানে বলেন, যখন বড় গাছ পড়ে তখন মাটি কাঁপে। 
গ
১৯৭৩ সালে শিখদের রাজনৈতিক দল ‘শিরোমনি আকালি দল’ ও অন্যান্য শিখ গ্রুপ ঘোষণা করে ‘আনন্দপুর সাহিব রেজুলেশন’ নামের বিবৃতি। এতে অন্যান্য দাবিদাওয়ার মধ্যে পাঞ্জাব ও শিখদের জন্য ‘বিশেষ মর্যাদা’ দাবি করা হয়। ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে পাঞ্জাবের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে রাজ্যপর্যায়ে। এর ফলে রাজ্য সরকারকে বাতিল করা হয়। জার্নাল সিং বিন্দ্রাওয়ালের নেতৃত্বে পাঞ্জাবে বিদ্রোহ সৃষ্টি হয়। কিছু বিদ্রোহী শিখ গোষ্ঠী সিদ্ধান্ত নেয় সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পাঞ্জাবে খালিস্তান নামে আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে। তারা লড়বে ভারত সরকার ও ভরতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। অন্যরা চাইল আনন্দপুর সাহিব রেজুলেশনের ওপর ভিত্তি করে ভারতের অধীনে স্বায়ত্তশাসিত পাঞ্জাব। বিপুলসংখ্যক শিখ সশস্ত্র আন্দোলনের নিন্দা জানায়।
১৯৮৩ সালে পাঞ্জাবের অবস্থা খুবই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সে বছরের অক্টোবরে কিছু শিখ বিদ্রোহী একটি বাস থামিয়ে বাসের ছয়জন হিন্দু যাত্রীকে হত্যা করে। একই দিনে অন্য একটি চরমপন্থী গোষ্ঠী একটি ট্রেনে দুইজন কর্মকর্তাকে হত্যা করে। এ প্রেক্ষাপটে ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় কংগ্রেস সরকার পাঞ্জাবে কংগ্রেসের রাজ্য সরকার বাতিল করে সেখানে প্রেসিডেন্টের শাসন চালু করেন। অপারেশন ব্লু স্টার চলে ১৯৮৪ সালের ৩ জুন থেকে ৮ জুন পর্যন্ত। এর আগের চার মাস সময়ে গোটা পাঞ্জাবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনায় ২৯৮ জন লোক নিহত হয়। ব্লু স্টার অপারেশনের পাঁচ দিনে নিহত হয় ৪৮ জন। তখন সশস্ত্র শিখদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য বিভিন্ন মহল থেকে আহ্বান জানানো হয়। তখন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ভারতীয় সেনাবাহিনীকে অপারেশন পরিচালনার আদেশ দেন। আর স্বর্ণমন্দির থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের সরিয়ে দেয়ার আদেশ দেন জুনের প্রথম দিকে। বিদ্রোহীদের সরিয়ে দিয়ে পাঞ্জাবের অমৃতসর শহরের হরমন্দির সাহিব কমপ্লেক্সের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ এবং মন্দির কমপ্লেক্স ভবন থেকে জার্নেইল সিং বিন্দ্রাওয়ালে ও তার অনুসারীদের সরিয়ে দেয়ার আদেশও দেয়া হয়। বিন্দ্রাওয়ালে আগেই অবস্থান নিয়েছিলেন হরমন্দির সাহিবে এবং ১৯৮০ সালের এপ্রিল থেকে এটিকে ব্যবহার করে আসছিলেন তার সদর দফতর হিসেবে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি গুরুদুয়ারায় অস্ত্র মজুদ করে আসছিলেন পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের সশস্ত্র অভিযান পরিচালনার জন্য।
সেনাবাহিনীর সূত্র মতে, এ অভিযানে বেসামরিক লোক মারা গেছে ৪৯২ জন। আর সামরিক বাহিনীর লোক মারা গেছে ১৩৬ জন, আহত হয়েছেন ২২০ জন। বেসরকারি সূত্র মতে, লোকক্ষয় ঘটেছে আরো অনেক বেশি। কারো কারো মতে, নিহতের সংখ্যা ২০ হাজারের মতো। মার্ক টালি ও সতীশ জ্যাকব উল্লেখ করেছেন, যেসব বেসামরিক শিখ মার্চ করে অমৃতসরের দিকে যাচ্ছিল, তাদের ওপর দিয়ে সুলতানউইন্ড এলাকায় সেনাবাহিনী ট্যাঙ্ক চালিয়ে দিয়েছিল। হত্যার শিকার হয়েছিলেন বিন্দ্রাওয়ালে ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল সাবেগ সিং। এই অপারেশন মন্দির কমপ্লেক্সের কাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। আকাল তখত মন্দির সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এর প্রতিবাদ আসে সারা ভারত থেকে। এমনকি ভারতের বাইরে থেকেও। এর প্রতিশোধের পথ ধরেই ঘটে ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড। তার শিখ প্রহরীর হাতে তিনি পাণ হারান। আর হত্যাকাণ্ডের ফলে চলে শিখবিরোধী রায়ট।
কেমন ছিল এ রায়ট
ইন্দিরা গান্ধী নিহত হন ৩১ অক্টোবর। রায়ট শুরু হয় ১ নভেম্বর থেকে। কিছু কিছু এলাকায় তা চলে কয়েক দিন ধরে। রায়টে দিল্লিতে মারা যায় তিন হাজার শিখ, আর সারা দেশের আরো ৪০টি শহরে মারা যায় আরো আট হাজার। সুলতানপুরি, মঙ্গলপুরি, ত্রিলকপুরি ও দিল্লিই ছিল সবচেয়ে বেশি হারে দাঙ্গার শিকার। জনতা রড, ছোরা ও কেরোসিনসহ আরো দাহ্য পদার্থ নিয়ে শিখ অধ্যুষিত এলাকায় হামলা চালায়। তারা যে শিখদেরই সামনে পেয়েছে নারী-পুরুষ-শিশু নির্বিশেষে হত্যা করেছে। শিখদের বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়, আগুন ধরিয়ে দেয়া দেয়। জনতা বাস-ট্রেন থামিয়ে শিখদের টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে হয় কুপিয়ে মেরেছে, নয়তো কেরোসিন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। অনেককে বাড়িঘর থেকে বের করে এনে হত্যা করা হয়েছে। শিখ নারীরাও ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ধরনের দাঙ্গা পুলিশের সহায়তা ছাড়া ঘটতে পারে না। দিল্লি পুলিশের সর্বোচ্চ দায়িত্ব ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে নির্দোষ-নিরপরাধ শিখদের রক্ষা করা। এর বদলে পুলিশ পূর্ণ সহায়তা করেছে দাঙ্গাবাজদের। এসব দাঙ্গাবাজেরা কাজ করছিল নীতিবোধ বিবর্জিত নেতা জগদীশ টিটলার ও এইচ কে এল ভগবতের নেতৃত্বে। এটা সবার জানা, অনেক জেল, সাবজেল ও লকআপ তিন দিন পর্যন্ত খুলে দিয়ে বন্দীদের শিখিয়ে দেয়া হয়েছে ‘টিচ দ্য শিখ অ্যা লেসন’। তবে এটাও বলা ঠিক হবে না, দিল্লি পুলিশ কিছুই করেনি। যেখানে শিখেরা তাদের নিজেদের বাঁচাতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, সেখানে পুলিশ শিখদের বিরুদ্ধে কড়া অ্যাকশন নিয়েছিল। যেসব শিখ নিজেদের জানমাল বাঁচাতে গুলি করেছিল, তাদের দাঙ্গার পর  জেলে বন্দী করে নির্যাতন ॥
পর্ব চার ঘ
শিখবিরোধী দাঙ্গাঃ
১৯৮৪ সালে শিখবিরোধী দাঙ্গা চলায় শিখবিরোধী ভারতীয় জনতা। শিখ ধর্মাবলম্বী দেহরক্ষী ইন্দিরা গান্ধীকে হত্যা করার পর এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে এ দাঙ্গা বাধে। এক হিসেবে এ দাঙ্গায় আট হাজারের মতো লোক নিহত হয়। শুধু দিল্লিতেই নিহত হয় তিন হাজার। দাঙ্গা চলে ৩১ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। দফায় দফায় চলে এ দাঙ্গা। ভারতের মূল গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইর অভিমত (সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো) দিল্লি পুলিশের সহায়তায় এই রায়ট চলে। কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু কমকর্তাও এ কাজে সহায়তা জোগায়। মায়ের মৃত্যুর পর রাজিব গান্ধী হন ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই তিনি বলেছিলেন বড় গাছ যখন পড়ে, তখন মাটি কাঁপে। 
১৯৭০-এর দশকে ইন্দিরা গান্ধী ভারতে জরুরি অবস্থা জারি করেন। তখন স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত হাজার হাজার শিখকে আটক করে কারাগারে রাখা হয়। তখন বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র শিখেরা মাঝে মধ্যেই সন্ত্রাসী হামলা চালাত। ভারতীয় সরকারের কাছে এরা ছিল সন্ত্রাসী। ১৯৮৪ সালে জুনে ইন্দিরা গান্ধী আদেশ দেন শিখদের স্বর্ণমন্দিরে সামরিক অভিযান চালিয়ে এই মন্দিরকে বিচ্ছিন্নতাবাদীমুক্ত করতে। কারণ বলা হচ্ছিল, এই বিচ্ছিন্নতাবাদী শিখেরা স্বর্ণমন্দিরে অস্ত্রের মজুদ গড়ে তুলছে। এই সামরিক অভিযানের নাম ‘অপারেশন ব্লু স্টার’। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনী নামানো হয় পাঞ্জাবের গ্রামাঞ্চলকে বিচ্ছিন্নতাবাদমুক্ত করতে। 
এ দ্বন্দ্বে সরকারি রিপোর্ট মতে, দুই হাজার ৭০০ জন নিহত হয়। রায়টের পর ভারত সরকার বলে এ রায়টে দিল্লি থেকে ২০ হাজার লোক বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবে পিপলস ইউনিয়ন ফর লিবারটিজের রিপোর্ট মতে, এ সংখ্যা ‘কমপক্ষে’ এক হাজার জন বাস্ত্চু্যুত হয়। উল্লেখ্য, এই পিপলস ইউনিয়ন একটি মানবাধিকার সংস্থা। এটি সমাজবাদী নেতা জয়প্রকাশ নারায়ণ ১৯৭৬ সালে পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ অ্যান্ড ডেমোক্র্যাটিক রাইটস (পিইউসিএলডিআর) নামে প্রতিষ্ঠা করেন। সে যা-ই হোক এ রায়টের সবচেয়ে বেশি শিকার হয় দিল্লির শিখ অধ্যুষিত এলাকা। সারা ভারতের মানবাধিকার সংস্থাগুলো ও পত্রপত্রিকার বিশ্বাস এই হত্যাযজ্ঞ ছিল সংগঠিত। এই হত্যাযজ্ঞ নিয়ে রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের দ্বান্দ্বিক অবস্থান এবং কিলারের বিচারিক শাস্তি দেয়ার ব্যাপারে সাধারণ শিখদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়। বেড়ে যায় খালিস্তান আন্দোলনের প্রতি সমর্থন। ‘আকালি তখত’ নামের শিখবাদের ধর্মীয় গভর্নিং বডি এই হত্যাকাণ্ডকে জেনোসাইড বা গণহত্যা বলে মনে করে।
২০১১ সালে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ভারত সরকারকে জানায়, এখনো এই ‘মাস কিলিং’-এর বিচার হয়নি। ২০১১ সালে উইকিলিকস ক্যাবল লিকস জানায়, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস পরিচালিত সরকার এই দুষ্কর্মে সহযোগিতা জুগিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ কাজকে অভিহিত করে ভারত সরকারের শিখবিরোধী ‘অপরচুনিজম’ ও ‘হ্যাট্রিড’ নামে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ রায়টকে গণহত্যা বলতে অস্বীকার করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলে এটি ছিল ‘ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন’। এ ছাড়া ২০১১ সালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ প্রতিবেদনে বলে, ভারতের হরিয়ানায় ব্যাপক শিখবিরোধী হামলার ঘটনা ঘটে বড় ধরনের প্রতিশোধপরায়ণতার অংশ হিসেবে।
দীর্ঘ আলোচনার পর এ কথা পরিষ্কার বুঝা যায় বাপের পথে মেয়ে হাঁটলো ॥ ৭১ এর গণহত্যা আর শিখ বিরোধী হত্যা ,এতো হত্যা এতো রক্ত যার হাতে তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যু হয় কি করে ???
মুক্ত বুদ্ধি চর্চা কেন্দ্র থেকে
সূফি বরষণ

Monday, 10 August 2015

পর্ব তিন কউপমহাদের রাজনীতিতে রক্ত দেয়া নেয়ার খেলা চলছে এবং ভবিষ্যতেও কি চলবে ????নেহেরুর যেভাবে মৃত্যু হয়॥

পর্ব তিন   ক
উপমহাদের রাজনীতিতে রক্ত দেয়া নেয়ার খেলা চলছে এবং ভবিষ্যতেও কি
চলবে ???? নেহেরুর যেভাবে মৃত্যু হয়॥

সূফি বরষণ
১৯৬২ সালের ১ম ভারত-চীন যুদ্ধের পরে নেহেরু অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কাশ্মীরে কিছুদিন বিশ্রাম নেন। ১৯৬৪ সালের মে মাসে কাশ্মীর থেকে ফেরার পরে নেহেরু হৃদরোগে আক্রান্ত হন। অবশেষে ১৯৬৪ সালের ২৭ মেনেহেরু তার কার্যালয়ে মৃত্যু বরণ করেন। আসলে তিনি ছিলেন একজন ক্যানসারের রোগী এবং এই রোগেই মারা যান ॥
তাঁরও স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি ॥  এছাড়াও আমি এই ধারাবাহিক আলোচনার ভূমিকায় এবং গান্ধীজির মৃত্যুর কারণ নিয়ে যেসব কথা তুলে ধরে ছিলাম প্রায় সব গুলো কারণই নেহেরুর সাথে প্রযোজ্য ॥ তাই আলোচনা দীর্ঘ না করে এটুকু বলা যায় ৪৭ এ ভারত ভাগ করতে, বিশাল দাঙ্গা লাগিয়ে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ হত্যার নায়ক কিন্তু এই নেহেরু॥ আবার নেতাজি সুভাষকে হত্যাকারী হিসেবে অভিযোগের আঙুলি ঐ নেহেরুর দিকে॥ এখানেই শেষ নয় দীর্ঘকাল নেতাজির পরিবারের প্রতি নজরধারী করার গোপন তথ্য ফাঁস হয় কিছু কাল আগে আর এটা করতেন নেহেরু॥  
১৯৭০ সালের নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর থেকে নির্বাচিত এমপি (সভ্য) এম এ মোহাইমেন সাহেব তাঁর লেখা ইতিহাসের আলোকে  দেশ বিভাগ ও কায়েদে আযম জিন্নাহ নামক বইয়ের ভূমিকায় লিখেছেন ১৯৪৫ সালে ক্যাবিনেট মিশন প্লান গ্রহণ করে তিনি( জিন্নাহ) ভারতকে এক রাষ্ট্র রাখতে স্বীকৃত হয়েছিলেন কিন্তু জওহরলাল নেহরু গান্ধীজি প্যাটেল প্রভৃতি লর্ড মাউন্টব্যাটেনের সহযোগিতায় ভারতকে বিভক্ত করে ফেলেছিল যখন তাঁরা মাউন্টব্যাটেনের কাছ থেকে আশ্বাস পেল পান্জাব ও বাংলাদেশ ভাগ করে দেয়া হবে॥
উপরন্তু আসামকেও পূর্ব পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করে ভারতকে দিয়ে দেয়া হবে তখন ভারতের বৃহত্তর অংশের মালিক হওয়ার লোভে কংগ্রেস নেতারা ভারত বিভাজনে সম্মত হয়ে গেলেন ॥ এই হলো গান্ধী ও নেহেরুর আসল চেহারা যারা সারা ভারতবর্ষে দাঙ্গা লাগিয়ে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষকে হত্যা করে এবং শরণার্থী বানায়॥
বর্তমান ভারতের প্রতিষ্ঠাকল্পে ‘আধুনিক ভারতের জনক’ পন্ডিত জওহরলাল নেহেরুর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
জওহরলাল নেহেরু ১৯১৬ সালে কামালা নেহেরুকে বিয়ে করেন। তাদের সন্তান ইন্ধিরা প্রিয়দর্শিনী গান্ধী জন্মগ্রহণ করেন ১৯১৭ সালে ।
কামালা নেহেরু যক্ষ্মারোগের পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য সুইজারল্যান্ডে প্রেরিত হন। কিন্তু তিনি ঐ অসুখেই ১৯৩৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। কামালা নেহেরুর মৃত্যুর পর নেহেরু তাঁর সমস্ত শক্তি এবং সময়ের সবটুকু স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য নিয়োজিত করেন।
দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে হিসেবে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা এবং সর্বশেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেনের স্ত্রী লেডি মাউন্টব্যাটেন এডউইনার সাথে গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। লর্ড এবং লেডি মাউন্টব্যাটেনের কন্যা পামেলা মাউন্টব্যাটেন তার বই ‘India Remembered’ এ তার মা এবং নেহেরুর সুসম্পর্কের কথা লিখেছেন।
‘A Special Relationship’ এ তিনি লিখেছেন ”আমার মায়ের বেশ ক’জন প্রেমিক ছিল এবং আমার বাবা এসবে অভ্যস্ত ছিলেন। এটি শুরুতেই তার মন ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু নেহেরুর ব্যাপারে তা ছিল ভিন্ন….. ” ॥  এই লিংকের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন নেহেরু কিভাবে দায়ী নেতাজির হত্যার পেছনে ॥ http://www.bengali.kolkata24x7.com/netaji-didnt-die-in-plane-crash-he-was-killed-former-bodyguard.html
খ
‘বিমান দুর্ঘটনায় মারা যাননি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু৷ তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল’, এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন একদা নেতাজির দেহরক্ষী তথা আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রাক্তন সেনা জগরাম যাদব(৯৩)। শুধু তাই নয়, নেতাজির মৃত্যুর জন্য পরোক্ষে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুকে দায়ী করেছেন তিনি। প্রসঙ্গত, আইবি-র কিছু নথি থেকে নেতাজির পরিবারের উপর নেহেরুর নজরদারির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। যা নিয়ে বিশ্ব জুড়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। এক সাক্ষাৎকারে জগরাম যাদব দাবি করেছেন, ‘নেতাজিকে নিয়ে সমস্যায় ছিলেন নেহেরু’৷ এ প্রসঙ্গে ১৯৪৫ সালের চট্টগ্রাম জেলে থাকাকালীন এক অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে জগরাম জানান, ‘চট্টগ্রাম জেলে থাকাকালীন আমরা খবর পাই, যে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়েছে। তবে আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে নেতাজি বেঁচে আছেন। কারণ, নেতাজি একসময়ে আমাদের জানিয়েছিলেন, যে বিভ্রান্তি ছড়াতে তাঁর মৃত্যু নিয়ে গুজব রটানো হতে পারে’৷ আর ঠিক সেটাই হয়েছে৷
নেতাজির পরিবারের পিছনে টিকটিকি লাগিয়েছিলেন নেহরু
জগরাম যাদব  জানিয়েছেন, ‘সুভাষের জনপ্রিয়তা ও জনমানসে গ্রহণযোগ্যতা যে নিজের তুলনায় অনেক বেশি তা বুঝতে পেরেছিলেন নেহেরু৷ তাই নেতাজিকে খুন করতে পিছপা হন নি’। এছাড়াও নেতাজির প্রাক্তন দেহরক্ষীর দাবি, ‘১৯৪৯ সালে চিনের স্বাধীনতার পর চিনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে যান এক দূত৷ তিনি জানান, নেতাজি রাশিয়াতে রয়েছেন এবং দেশে ফিরতে চান। রাষ্ট্রদূত কে এম পানিকরের অনুপস্থিতিতে এই খবর জানতে পারেন সেনাবাহিনীর আইনজীবী ব্রিজ ঠক্কর। খবর শুনে উৎফুল্ল ঠক্কর প্রথমেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নেহেরুকে তা জানান। চিন থেকে ভারতে আসা পরের বিমানেই ঠক্করকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, ওই কাজের জন্য ব্রিজ ঠক্কর যোগ্য নন’৷
৯৩ বছরের জগরাম যাদবের মতে, ‘তাঁর মতো অনেকেই এ কথা বিশ্বাস করেন যে নেতাজিকে খুন করা হয়েছিল’ তবে নেতাজির পরিবারের উপর নেহেরুর নজরদারি ইস্যুতে কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। ১৯৪৩-৪৪ সালে প্রায় ১৩ মাস নেতাজির দেহরক্ষী ছিলেন জগরাম। ১৯৪৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ সরকার যাদবকে বরখাস্ত করে৷ এরপর তিনি ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মিতে যোগ দেন৷ পাঁচ থেকে ছ’বছর সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন৷ এবং মাসে ২৫ টাকা করে মাইনা পেতেন৷ তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর হয়ে লড়াই করেন৷
দীর্ঘ আলোচনার পর এটাই পরিষ্কার বুঝা যায় নেহেরু একজন হত্যাকারী ষড়যন্ত্রকারী যে কারণে তার ও তাঁর পরিবারের কারোই স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি আর হওয়ার কথাও নয়॥ এইসব নেতার দুই হাত রক্তে রাঙানো ॥ তাই হত্যাকারীর এই পরিণতিই হওয়ার কথা॥
মুক্ত বুদ্ধি চর্চা কেন্দ্র থেকে
সূফি বরষণ

Sunday, 9 August 2015

পর্ব দুই কউপমহাদের রাজনীতিতে রক্ত দেয়া নেয়ার খেলা চলছে এবং ভবিষ্যতেও কি চলবে ????গান্ধীকে যেভাবে হত্যা করা হয়.

পর্ব দুই ক
উপমহাদের রাজনীতিতে রক্ত দেয়া নেয়ার খেলা চলছে এবং ভবিষ্যতেও কি চলবে ????

গান্ধীকে যেভাবে হত্যা করা হয়..
সূফি বরষণ
১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি গান্ধীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সে সময় তিনি নতুন দিল্লীর বিরলা ভবন (বিরলা হাউস) মাঝে রাত্রিকালীন পথসভা করছিলেন। তার হত্যাকারী নাথুরাম গডসে ছিলেন একজন হিন্দু মৌলবাদী যারা সাথে চরমপন্থী হিন্দু মহাসভার যোগাযোগ ছিল।নাথুরাম বিনায়ক গোডসে ছিলেন মহাত্মা গান্ধীর প্রকৃত হত্যাকারী। হিন্দু মহাসভা পাকিস্তানীদের অর্থ সাহায্য দেবার প্রস্তাব করে ভারতকে দূর্বল করার জন্য গান্ধীকে দোষারোপ করে। এই কারণেই প্রাণ দিতে হয় এই মহত্মাকে l আমি একটা আর্টিকেলের লিংক দিচ্ছি যেখানে লেখক বিশদ ভাবে এই হত্যা কান্ডের সঙ্গে নাথুরাম গডসের সম্পৃক্ততা এবং যুক্তি
দেখিয়েছেন l
নাথুরাম গডসে কোনো পাগল ছিলো না সে বুঝে শুনে - বিচার, বিবেচনা করে দেশের স্বার্থে এই মহান মানুষটিকে হত্যা করেছে ॥
  https://barunroy.wordpress.com/2007/12/18/why-godse-killed-gandhi/
গোডসে এবং সহায়তাকারী নারায়ণ আপতেকে পরবর্তীতে আইনের আওতায় এনে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ১৯৪৯ সালের ১৪ নভেম্বর তাদের ফাঁসি দেয়া হয়। নতুন দিল্লীর রাজঘাটের স্মুতিসৌধে আছে "হে রাম" যাকে অনুবাদ করে বলা যায় "ও ঈশ্বর" এত দুটি শব্দ দুটিকে গান্ধীর শেষ কথা বলে বিশ্বাস করা হয়, অবশ্য এই উক্তির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ আছে।জওহরলাল নেহরু রেডিওতে জাতীর উদ্দশ্যে ভাষণে বলেন:
"বন্ধু ও সহযোদ্ধারা আমাদের জীবন থেকে আলো হারিয়ে গেছে, এবং সেখানে শুধুই অন্ধকার এবং আমি ঠিক জানি না আপনাদের কি বলব কেমন করে বলব। আমাদের প্রেমময় নেতা যাকে আমরা বাপু বলে থাকি, আমাদের জাতীর পিতা আর নেই। হয়ত এভাবে বলায় আমার ভূল হচ্ছে তবে আমরা আর তাকে দেখতে পাব না যাকে আমরা বহুদিন ধরে দেখেছি, আমরা আর উপদেশ কিংবা স্বান্ত্বনার জন্য তার কাছে ছুটে যাব না, এবং এটি এক ভয়াবহ আঘাত, শুধু আমার জন্যই নয়, এই দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য।"
গান্ধীর ইচ্ছানুযায়ী, তার দেহভস্ম বিম্বের বেশ কয়েকটি প্রধান নদী যেমন: নীলনদ, ভোলগা,টেমস
প্রভৃতিতে ডুবানো হয়। সামান্য অংশ ডঃ ভি এম নোলের (পুণের একজন সাংবাদিক ও প্রকাশক) পক্ষ থেকে পরমহংস যোগানন্দকে পৌছে দেয়া হয়। এরপর তার দেহভস্ম সেলফ রিয়ালাইজেশন ফেলোশিপ লেক স্রাইনের মহাত্মা গান্ধী বিশ্ব শান্তি সৌধে একটি হাজার বছরের পুরনো চৈনিক পাথরের পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়। প্রিয় পাঠক একবারও কি আপনার মনে প্রশ্ন জাগেনি অহিংসবাদী গান্ধীজিকে কেন হত্যা করা হলো॥
গান্ধীজির নেতৃত্বে ভারত স্বাধীন হলো ঠিকই । সমগ্র ভারতবর্ষে তার দল কংগ্রেস যে রক্তের বণ্যায় ভাসিয়ে দিলো তার থেকে নেতা হিসেবে তিনি বাদ যান কি করে ??? ১৫ মিলিয়নের বেশি মানুষ শরণার্থী হয় ৪৭ এ ভারত ভাগের সময় ॥ আর সেই কারণ  ৫ মিলিয়ন মানুষের রক্ত ৮৩ হাজারের বেশি মা বোনদের ইজ্জত হারিয়ে দেহ করতে হয়েছে রক্ষাক্ত  ৪৭ এ॥  হিন্দুধর্মকে তিনি ভালোবাসতেন তাঁর প্রাণের চেয়ে বেশি। স্বাধীনতার সাড়ে পাঁচ মাস পরে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাতেই তাঁর প্রাণ গেল গান্ধীজির ॥ ১৯৪৬ সালের দাঙ্গায় কলকাতা প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মুসলমান কে হত্যা করা হয়েছিল ॥ তিনি দাঙ্গা ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে সুদৃর দিল্লি থেকে বাংলাদেশের নোয়াখালীতে চলে আসেন ॥ কারণ নোয়াখালীর ক্ষতিগ্রস্তরা ছিল হিন্দু কিন্তু কলকাতায় ইতিহাসের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায় তার দল কংগ্রেস মুসলমানদের উপরে সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি ॥ এই হলে অহিংসবাদী সাম্প্রদায়িক গান্ধীজির আসল চরিত্র ॥ আবার তিনিই রাজনীতির স্বার্থে মুসলমানদের সমর্থন পাওয়ার জন্যে খেলাফত আন্দোলনকে সমর্থন করে পক্ষে প্রচারণা চালান সভা সমাবেশ করেন ॥ হিন্দুবাদী কংগ্রেসের ছাড় না দেয়ার মনোভাব ও মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ মূলক চিন্তাভাবনার কারণে ভারত ভাগ হতে হয়॥  ৪৭ এ যে রক্তের বণ্যা বয়ে গেলো এরজন্য গান্ধীজি কিন্তু কম দায়ী নয়॥ বাহ্যিক ভাবে গান্ধীজিকে যত মহান করে উপস্থাপন করা হোক না কেন তিনি  কিন্তু ততটা নন বরং তার দুই হাতও মানুষের  রক্তে রাঙানো॥ তিনিও একজন হত্যাকারী ॥
গান্ধীজির যত অপকর্ম:
লন্ডন থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট  এর লিংকটা এখানে দিলাম ॥ http://www.independent.co.uk/arts-entertainment/books/features/thrill-of-the-chaste-the-truth-about-gandhis-sex-life-1937411.html
আপনার পড়ে দেখতে পারেন ॥
আর গান্ধীজির অপকর্ম- নামে লেখা অলোককৃষ্ণ চক্রবর্তী বইটা  ||ROKOMARI.COM|| থেকে পড়তে পারেন ॥  আরও পড়তে পারেন এই লিংক থেকে http://www.somewhereinblog.net/blog/ma
ভারত বর্ষ চিরকালই ধর্মভীরু দেশ। তাই ধর্মের নামে এ দেশে অনেক অপকর্ম করা যায়। বুদ্ধিমান গান্ধীজি সেটা বুঝতে পেরে প্রথমেই আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। অঙ্গে ধারণ করেন সস্তার ঠেঙ্গো ধুতি ও এক চিলতে চাদর।
পর্ব দুই খ
গান্ধীজি নিজে নগ্ন হয়ে সুন্দরী নারীদের নগ্ন করে শয্যা-সঙ্গিনী করাটা তাঁর বিকৃত যৌনাচার ছাড়া কিছু নয়। তার ফলে গান্ধীজি তাদের মানসিক রোগের কারণ হয়েছিলেন। সেই সব মেয়েরা মূর্ছা যেত। অর্থাৎ, মৃগি রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। নির্মল বসু এই নোংরা ব্যাপার নিয়ে গান্ধীজির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
নিজের নাতনি মনু গান্ধীর সঙ্গে উলঙ্গ হয়ে শুয়ে থাকতেন গান্ধীজি। মনু একদিন বলেছিলেন, ‘তুমি আমাকে একেবারে শেষ করে দিয়েছ’।
গান্ধীজির এই সব নোংরামি দেখে তাঁর একান্ত অনুগত গান্ধীভক্ত স্টেনোগ্রাফার পরশুরাম তাঁর কাছ থেকে চলে যান।
তিনি পাঁচ ছেলের (একজন জন্মের পর পরই মারা যায়) পিতার ব্রহ্মচর্য পরীক্ষা করা কি আদৌ বিশ্বাসযোগ্য?
না। অবিশ্বাস্য! অকল্পনীয়! অবাস্তব! এটা স্রেফ গান্ধী মহারাজের বিকৃত যৌনাচার। তাই বলে ভাববেন না গান্ধীর প্রচুর সেক্স ছিল । গান্ধী ছিল বিকৃত রুচির । সমকামিতায় উস্তাদ, আবার কম বয়সী মেয়ে নিয়ে ঘুমোতে যেত । কামের চেয়ে আকাম বেশী করতো । সেক্স নিয়ে প্রচুর গল্প আছে ।
(অলোককৃষ্ণ চক্রবর্তী এর ‘গান্ধীজির অপকর্ম’ বই থেকে গৃহিত)॥ গান্ধীজি অহিংস ছিলেন না। অহিংস ছিল তাঁর মুখোশ। নেতাজি সুভাষকে তিনি কংগ্রেস থেকে সরিয়ে ছিলেন হিংসার অনলে জ্বলে…॥ আর তাঁর সাথে নেহেরুরও ইন্দন ছিল॥
গান্ধীজি রেলের প্রথম শ্রেণিতে চড়তেন না তৃতীয় শ্রেণিতে যাতায়াত করতেন সাধারণ মানুষকে নিজের উদারতা দেখাতে ॥ কিন্তু আপনারা কি একবারও ভেবে দেখেছেন রেলের তৃতীয় শ্রেণির কামরায় তাঁকে নিরাপত্তা দিতে অনেক বেশি ব্যয় হতো॥ গান্ধীজি দেশ বিভাগ চাননি। এ বিষয়ে তাঁর বিখ্যাত উক্তি ‘দেশভাগ হলে আমার মৃত দেহের উপর দিয়েই হবে। আমি জীবিত থাকতে দেশভাগে রাজি হব না’।
বেশিরভাগ দেশের মানুষই গান্ধীজির এই উক্তিটা জানে। অথচ এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় ধাপ্পা—সত্যের পূজারীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা। দেশভাগের প্রায় তিন বছর আগেই জিন্নার মালাবার হিলের বাড়িতে এক গোপোন বৈঠকে পাকিস্তান মেনে নেন গান্ধীজি। ভারতের অখণ্ডতা শেষ করেন আগে তিনি। এখানেই শেষ নয়, আরো আছে। কংগ্রেস ওয়র্কিং কমিটির অধিবেশনে দেশ বিভাগের প্রস্তাব গৃহীত হলে তিনি তা সমর্থন করেন। অথচ প্রায় সবাই জানে গান্ধীজির অমতে জিন্না, প্যাটেল, নেহেরু চক্রই দেশভাগ করেছিল। আসলে গান্দীজিই দেশভাগের মূলে। গান্ধির একজন সহযাত্রী তাঁর দৈনিক খাদ্য তালিকা দেখে তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন তাঁর খাবারের মূল্য কি ৬ পয়সা? আসলে ৬ পয়সা ছিলনা ॥ অনেক বেশি মূল্যের খাবার খেতেন॥
গান্ধীজির জীবনযাত্রা সাদাসিধে মনে হলেও, ব্যয়বহুল ছিল এবং সরজীনি নাইডু একদিন গান্ধীজিকে বলেছিলেন ‘বাপু, আপনাকে দারিদ্র্যের মত রাখতে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে’।
উপরোক্ত তালিকার বাইরে তিনি প্রতিদিন মধু খেতেন এবং গুজরাটি রুটি খেতেন। ঘি দিয়ে পা মালিশ করাতেন।
এই হচ্ছেন গরিবের প্রতিভূ গান্ধী মহারাজ। অনেক জিনিসেরই আসল সত্য ধীরে ধীরেই প্রকাশ পায়। গান্ধীজির অপকর্মও এখন এই ভাবে একের পর এক প্রকাশিত হচ্ছে। গান্ধী মিথ ভেঙ্গে যাচ্ছে॥ গান্ধীজির ধর্মের নামে ভন্ডামি লালসালু কিংবা দেওয়ানবাগীকে ছাড়িয়ে ছিলেন ॥ গান্ধীজির মতো ভন্ড প্রতারক বক ধার্মিক কুটিল রাজনৈতিক এবং খুনী আর একজনও জন্মায়নি ॥ সে আবার জাতির পিতা হয় কি করে ??? ॥ গান্ধীজি একজন হত্যাকারী হিসেবে তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারেনা ॥
মুক্তবুদ্ধি চর্চা কেন্দ্র থেকে
সূফি বরষণ

পর্ব একউপমহাদের রাজনীতিতে রক্ত দেয়া নেয়ার খেলা চলছে এবং ভবিষ্যতেও কি চলবে ????

পর্ব এক
উপমহাদের রাজনীতিতে রক্ত দেয়া নেয়ার খেলা চলছে এবং ভবিষ্যতেও কি চলবে ????

সূফি বরষণ
১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের সাথে জড়িত মহান বীর নেতাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি ॥ এমনকি ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের তিন মহা কলাকৌশলীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি ॥ এর কারণ হিসেবে আমি শুধু মনে করি তারা গণহত্যার সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে??!! শুধুমাত্র ক্ষমতার লোভে সাধারণ মানুষের মাঝে রক্তের বণ্যা বয়ে দিয়েছে॥ এই
কারণেই   হত্যাকারীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয় কি করে ???!!
আর এই তিন মহান কলাকৌশলীরা হলেন শেখ মুজিব,জুলফিকার আলী ভুট্রো ও ইন্দিরা গান্ধী॥ আমার এই লেখায় এগারো পর্বের ধারাবাহিক আলোচনায় সেই বিষয় গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করবো ॥ কেন তাদের এমনকি তাদের পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি ॥ রাজনীতির সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক চিরকালের॥ রক্তমাখা হাত উদারতার সংস্কৃতির গলা টিপে ধরেছে। চতুর্দিকে শুধু রক্ত আর রক্ত ॥ রক্তে রাঙানো দুহাত কোনো সময়ই মানবতার কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না॥ পারেনা গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্হা প্রতিষ্ঠা করতে॥ তার প্রমাণ আমরা বহুবার পেয়েছি ॥ উপমহাদের গত ছয় দশকের রাজনীতিতে তা শতভাগ সত্য প্রমাণিত হয়েছে ॥ দক্ষিণ এশিয়া সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নৃ-ভাষাগত ও ধর্মীয় সমন্বয়ের সংস্থান
করে । এই দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসের  ধারা ভিন্ন হলেও, দেশগুলির ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের মাঝে মিল ও সাদৃশ্য রয়েছে। এই সাদৃশ্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বসবাসকারী জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ আবেগীয়, মানসিক, সাংস্কৃতিক এমনকি বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক বন্ধনকে দৃঢ় করতে সহায়তা করেছে। এই বন্ধনগুলো দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলকে একটি অসাধারণ বহুমাত্রিক ও বহুসংস্কৃতির পরিচয় প্রদান করেছে।
গত  ছয় দশক ধরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর রাজনীতিতে ধর্মীয় গোঁড়ামী নতুন উপাদান হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। ধর্মের এই উগ্র  উত্থান এবং এর স্থিতি শান্তিপূর্ণ সমাজগুলোকে মেরুকরণ করছে যার মাঝে এই রাষ্ট্রগুলোকে অস্থিতিশীল করার ভয়ঙ্কর সম্ভাবনা বিদ্যমান রয়েছে॥ ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে উপমহাদেশের সব নেতা ব্যবহার করেছে॥ ধর্মের নামে বয়ে দিয়েছে মানুষের মাঝে রক্তের বণ্যা॥ সেই ইতিহাস আরও দীর্ঘ ॥
১৯৪৭ সালে ভারত_ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রক্তের ওপর দিয়ে। কলকাতা, নোয়াখালী, বিহারে রক্তের স্রোত বইল। পাঞ্জাবে যে রক্তবণ্যা  প্রবাহিত হয়, তার তুলনা সমগ্র মানবজাতির ইতিহাসে বিরল॥ এরজন্য কে দায়ী জিন্নাহ না নেহেরু ??? এটার উপরে দীর্ঘ আলোচনার দাবি রাখে ॥ কিন্তু ইতিহাসের নথি পত্র ঘাটলে দেখা যায় জিন্নাহ অখন্ড ভারত বর্ষ ধরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন ॥ কিন্তু নেহেরু যখন একগুঁয়েমি করে মুসলমানদের সব প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে বলে বসলেন যে আমার সাথে জিন্নাহকে প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা চাপরাশি হিসেবেও রাখবো না ??!! তখনই সব  চেষ্টা ব্যর্থ  হয়ে ভারত ভাগের দিকে এগিয়ে যায়॥ যার ফলে ১৫ মিলিয়নের বেশি মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে শরণার্থী হয়॥ আর নিহত হয় ৫ মিলিয়ন মানুষ ॥ এর জন্য দুই বন্ধু জিন্নাহ ও নেহেরুই দায়ী॥ তাদেরকে কেউ হত্যা না করলেও স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল তা বলা যায় না ॥ জিন্নাহ বিনা চিকিত্সায়  যক্ষ্মায়  মরতে হয়ে ছিল। ক্ষয়রোগে মারা না গেলে তাঁর ভাগ্যও গান্ধীর মতো হতো। তিনি প্রাণ দিতেন মুসলিম মৌলবাদীদের হাতে। কারণ, তিনি চাইছিলেন মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও পাকিস্তান হবে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। তাঁর ভাষায় ‘রিলিজিয়ন শুড নট বি অ্যালাউড টু কাম ইনটু পলিটিকস’—ধর্মকে রাজনীতিতে টেনে আনা উচিত নয়। আর নেহেরু কে ক্যানসারে মরতে হয় একেই বলে প্রকৃতির শাস্তি ॥
গান্ধীজির নেতৃত্বে ভারত স্বাধীন হলো ঠিকই । সমগ্র ভারতবর্ষে তার দল কংগ্রেস যে রক্তের বণ্যায় ভাসিয়ে দিলো তার থেকে নেতা হিসেবে তিনি বাদ যান কি করে ??? কারণ  ৫ মিলিয়ন মানুষের রক্ত ৮৩ হাজারের বেশি মা বোনদের ইজ্জত হারায় ৪৭ এ॥  হিন্দুধর্মকে তিনি ভালোবাসতেন তাঁর প্রাণের চেয়ে বেশি। স্বাধীনতার সাড়ে পাঁচ মাস পরে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাতেই তাঁর প্রাণ গেল। বিড়লা হাউসের মেঝে ভেসে গেল তাঁর পবিত্র রক্তে। অখ্যাত নাথুরাম গডসের ঠাঁই হলো ইতিহাসের  ঘৃণ্য ঘাতকের তালিকায় । ঐ যে গ্রামীণ বচন পাপ বাপকেও ছাড়ে না॥ রক্তের রাজনীতির খেলায় নিজের রক্ত দিয়েও শেষ রক্ষা হয় না॥ পৃথিবীর ইতিহাস তাই বলে কেউ পার পায়নি ॥ শাস্তি তাকে পেতেই হয়েছে ॥ ধারাবাহিক সেই আলোচনা আমি তুলে ধরার চেষ্টা করবো মানুষ হত্যার পিছনে এই নেতারা কিভাবে দায়ী এবং কিভাবে কি কারণে তাদের মৃত্যু হয়॥
মুক্তবুদ্ধি চর্চা কেন্দ্র থেকে
সূফি বরষণ

Saturday, 1 August 2015

বর্তমান বিশ্বে অষ্টম এবং দক্ষিণ এশিয়ার চতুর্থ নিরাপত্তাহীন দেশ বাংলাদেশ ??!!!! আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা আজ কোথায়???!

বর্তমান বিশ্বে অষ্টম এবং দক্ষিণ এশিয়ার চতুর্থ নিরাপত্তাহীন দেশ বাংলাদেশ ??!!!!
আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা আজ কোথায়???!

সূফি বরষণ
দেশের সাধারণ নাগরিকগণ আজ ভয়াবহ নিরাপত্তা সংকটে??!কিন্তু কেন এমনটি হওয়ার কথা ছিল না॥ অবৈধ ক্ষ�মতালোভী ডিক্টেটর হাসিনার সরকার আজ নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে চরম ভাবে ব্যর্থ হয়েছে ॥
এই অপহরণ বাণিজ্যের সরাসরি জড়িত সরকারি দলের নেতা কর্মী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা॥
এই চক্রের সদস্যরা অপহরণের মাধ্যমে দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা ॥

আজ বাংলাদেশ একটি অতঙ্কিত নিরাপত্তাহীন জনপদের নাম ॥ দেশে আজ গণতন্ত্র আইনের শাসন ও নির্বাচিত সরকার না থাকার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে ॥
এই অবৈধ শাসন আর অবৈধ শাসকের চাপিয়ে দেয়া গুম খুন নির্যাতন অপহরণ ধর্ষণ রাহাজারি আর কতদিন আমরা সহ্য করবো॥ কবে আসবে আমাদের মুক্তির দূত যুগের বখতিয়ার ॥

বিশ্বের  অপহরণের শীর্ষ দশের তালিকায়  ভারত, পাকিস্তানের সাথে  বাংলাদেশের নামও রয়েছে ॥ আর সেটা দক্ষিণ এশিয়ার দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম চতুর্থ ॥

বিশ্বে মুক্তিপণের জন্য সবচেয়ে বেশি অপহরণের ঘটনা ঘটে মেক্সিকোতে। পাকিস্তান, ইরাক, নাইজেরিয়া, আফগানিস্তানের মতো দেশকে টেক্কা দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। বাংলাদেশ রয়েছে ৮ম স্থানে।

অপহরণের কথা এলেই লিবিয়া, আফগানিস্তানের নাম ব্যাপকভাবে আসে। কিন্তু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব দেশের চেয়ে ভারতে অপহরণ হয় অনেক বেশি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি বীমা কোম্পানি এই তথ্য দিয়েছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়া উল্লেখ করেছে।

২০১৪ সালের হিসাব অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি অপহরণের ঘটনা ঘটে মেক্সিকোতে। এরপর রয়েছে যথাক্রমে ২. ভারত, ৩. পাকিস্তান, ৪. ইরাক, ৫. আফগানিস্তান,, ৬. লিবিয়া, ৭. আফগানিস্তান, ৮. বাংলাদেশ, ৯. সুদান, ১০ লেবানন।
মুক্তবুদ্ধি চর্চা কেন্দ্র থেকে
সূফি বরষণ